Posts

আমি একা!

  কিছু দীর্ঘশ্বাস জমা হয়ে আছে বুকে, কিছু অশ্রু থেমে আছে চোখের নিকটে, ঝরাবে না শিশির! যদি। যেতে চাও যাও। আমি পথ হবো চরণের তলে, না ছুঁয়ে তোমাকে ছোঁব, ফেরাবো না, পোড়াবই হিমেল অনলে মাঙ্গলিক স্নান! আর কে দেবে আমি ছাড়া আসল শোভন কষ্ট, কার পুড়েছে জন্ম থেকে কপাল এমন আমার মত 'ক' জনের আর সব হয়েছে নষ্ট, আর কে দেবে আমার মত হৃষ্টপুষ্ট কষ্ট। বুকের নিভৃতে কিছু দগ্ধ ক্ষত আছে লুকানো, কিছু অসম্পূর্ণ নির্মান, ভাঙ্গাচোরা গেহস্থালি ঘরদোর। নিজস্ব কিছু নিদ্রাহীন রাত্রি, যাকে চিরদিন নষ্ট চোখের মতো রেখে দিতে হয় কোমল অনিচ্ছার বাগানে, যাকে শুধু লুকিয়ে রাখাতেই সুখ, নিজের নিভৃতে রেখে গোপনে পোড়াতেই একান্ত পাওয়া! আমি একা এই ব্রহ্মাণ্ডের ভেতর একটি বিন্দুর মতো আমি একা!

অন্তর্নিহিত জীবন্তমূর্তি!

  আমার হারিয়ে ফেলার কেউ নেই, কাজেই খুঁজে পাওয়ারও কেউ নেই, আমি মাঝে মাঝে নিজেকে হারিয়ে ফেলি, আবার খুঁজে পাই, মানুষ হবার অনেক যন্ত্রণার একটি হচ্ছে, যা বলতে প্রাণ কাঁদে তা কখনাে বলা হয় না আমার! হয়তো ভাঙা মন নিয়ে যারা হাসতে জানে, তার মত শক্তিশালী মানুষ খুঁজে পাওয়া কষ্টকর এ ভুবনে; পৃথিবীতে ফিনিক ফোটা জোছনা আসবে। শ্রাবন মাসে টিনের চালে বৃষ্টির সেতার বাজবে। সেই অলৌকিক সঙ্গীত শােনার জন্য আমি থাকব না। কোনাে মানে হয় না এ অশ্রুসিক্ত জীবনযাত্রার! কোন এক সন্ধ্যাবেলায় সময়টা ভালাে ছিলো না, এই সময় মানুষ বড় একাকী বােধ করে বুঝি? তাদের বুক হু হু করে অপ্রত্যাশিত যন্ত্রণা অকারণেই চোখের পাপড়ি ভিজে উঠে, স্বপ্ন টা কেমন ছিল, তা ঘুম ভাঙ্গার পর বুঝা যায়। ঠিক তেমনি কাছের মানুষ কেমন ছিল, তা শুধু হারিয়ে যাবার পর বুঝা যায় এককালে অন্তর্নিহিত না হইলে, অথবা স্তিমিতভাব অবলম্বন না করিলেও, আমার অন্তর্নিহিত বন্ধন জীবন্তমূর্তি ধারণ করিল!

নারী! সুবিশাল আর দূর্বোধ্য মহাকাব্য

Image
  নারী! সুবিশাল আর দূর্বোধ্য মহাকাব্য, যার কেবল আদি আছে, অন্ত খোঁজে সে সাধ্য কার! তোমারেই দেখি আমি বহুরুপে সহস্রবার.... জননীরুপে মমতার ভান্ডারী, ভাগিনীরুপে স্নেহের পূঁজারী, প্রেয়সী রুপে প্রেমের হিমাদ্রী। তুমি অনুপমা, অনুপ্রেরণা, ধৈর্য্যবতী..... চাইলেই পারো শতবর্ষী তপস্বীর ধ্যান ভাঙ্গতে, নিরেট প্রস্তরে সুগন্ধি পুষ্প ফুটাতে, নিস্তরঙ্গ জলাধারে সুর-তাল-লয়ের কলকলে স্রোত ধারা ছোটাতে! নিজের আলোকিত করো, কারো সমৃদ্ধ অহর্নিশ, তোমার হিরন্ময় দ্যুতিতে জ্বলুক আলো জগৎময়! নারী তুমি, অন্ধকার আচ্ছাদিত ভূবনে ছড়াও উজ্বল আলোক রাশি প্রিয়ার আকুলতায়, গভীর নিশিতে বাজানো তুমি বাঁশরীর হাতের বাঁশি, তুমি প্রসব বেদনার মৃত্যু যন্ত্রনা শেষে, মায়ের বুকে জড়ানো শিশুর মায়া হাশর প্রাঙ্গনে, দ্বাদশ রবির বহ্নি জ্বালায়, তুমি আরশের নিচে শান্তির ছায়া। তোমা মাঝে যেন রহে নিহিত জগৎ মূখ, তোমাতে বুকেই পূর্ণতা পাক বিশ্বনিখিল

"ভদ্র"

  পৃথিবীর কঠিন থেকে কঠিনতম "ভদ্র" হওয়া! আমারও বাকশক্তি আছে,আমিও পারি এপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ধ্বনি পৌঁছাতে। আমার চোখ আছে,আমিও পারি চোখ রাঙ্গা করতে! আমার হাত-পা সবই আছে,আমিও পারি যখন তখন সবকিছু আঘাত করতে। আমার বুদ্ধি,জ্ঞান আছে,আমিও পারি যখন তখন মিথ্যা,বানোয়াট,অপবাদ,লাঞ্চনা,অশ্মীল ব্যবহার,ভয়-ভীতি,নানান রকম কীর্তি কলাপ করতআমার বুদ্ধি,জ্ঞান আছে,আমিও পারি যখন তখন মিথ্যা,বানোয়াট,অপবাদ,লাঞ্চনা,অশ্মীল ব্যবহার,ভয়-ভীতি,নানান রকম কীর্তি কলাপ করতে। কিন্তু, আমি এগুলো করি না।কারন, আমার মা-বাবা আমাকে ঐ ধরনে শিক্ষা দেয় নাই। আমাদের দূরভাগ্য! বর্তমান সমাজে নম্র-ভদ্র,সুশীল ব্যবহার,সম্মান,শ্রদ্ধা-ভক্তি, আত্মবিশ্বাস,মানবতা,স্নেহ ভালোবাসা বিলুপ্ত হয়ে গেছে! নিজের প্রতি আজ ঘৃণা হচ্ছে,মা-বাবার দেয়া শিক্ষা আজ নর্দমার ডাষ্টবিনে.... বিঃদ্রঃআমার লেখা গুলো একান্তই ব্যক্তিগত।বর্তমান সমাজের শিক্ষিত লোকগুলো আজ পশুর চেয়ে নিকৃষ্ট হয়ে গেছে,তাদের চলাফেরা, মুখ্য ও গৌন বিষয় গুলো।